৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৩৭ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামত ও সম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ

হাত-পা ছাড়াই বিশ্বজয় করেছিলেন প্রিন্স রেন্ডিয়ান!

সূত্র: Sarabangla / বাংলাদেশ

সংবাদ থেকে

১৮৭১ সালের ব্রিটিশ গায়ানার এক দরিদ্র পরিবারে যখন একটি শিশু জন্মাল, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞান বা চারপাশের মানুষ এই সত্য মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না যে এই জীবনটি কোনো সাধারণ জীবনের চেয়ে একচিলতুও কম নয়। শিশুটির কোনো হাত ছিল না, ছিল না কোনো পা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই চরম বিরল শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় টেট্রা-অ্যামেলিয়া সিন্ড্রোম। জন্মের পরপরই অনেকের কাছেই এটি মনে হতে পারত এক নিষ্ঠুর পরিহাস কিংবা আজীবন অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকার এক অন্তহীন অভিশাপ। কিন্তু প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর রসিকতাকে থোড়াই কেয়ার করে সেই শিশুটি একদিন এমন এক ইতিহাস গড়লেন, যা যুগের পর যুগ মানবাত্মার অদম্য শক্তির সবচেয়ে উজ্জ্বল দলিল হয়ে রইল। বিশ্ব তাকে একসময়ে চিনত ‘দ্য হিউম্যান ক্যাটারপিলার’ বা মানব শুঁয়োপোকা নামে, আবার কেউ কেউ ডাকত ‘দ্য লিভিং টর্সো’ বলে। অথচ এই নামগুলোর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক রক্তমাংসের মানুষ, যার প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বারবার হার মেনেছিল।

শৈশব এবং কৈশোরের কঠিন দিনগুলো পার করে প্রিন্স রেন্ডিয়ান খুব দ্রুতই অনুধাবন করেছিলেন যে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে করুণা কোনো সমাধান নয়। নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এমন এক অসম্ভব সাধনা শুরু করলেন, যা দেখলে যেকোনো সুস্থ মানুষের চোখ কপালে উঠবে। যেহেতু তার কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিল না, তাই তিনি নিজের কাঁধ, মুখ, চোয়াল এবং শরীরের ঊর্ধ্বাংশের পেশিগুলোকে জাদুকরি দক্ষতায় ব্যবহার করতে শিখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবিষ্কার করলেন কীভাবে মাটিতে সামান্য গড়াগড়ি দিয়ে বা শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। শুধু তাই নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলো যেমন নিজের মুখের থুতনি ও কাঁধের সাহায্য নিয়ে নিখুঁতভাবে শেভ করা, দেশলাই জ্বালানো, কিংবা সিগারেটে আগুন ধরানো তার কাছে নিখুঁত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তিনি কলম দিয়ে লিখতে পারতেন এবং ঠোঁটের কোণে ব্রাশ বা কলম খুব সাবধানে চেপে ধরে চমৎকার সব রেখা টেনে ছবিও আঁকতেন। কিছু জটিল কাজের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে তৈরি একধরনের কাঠের সাপোর্ট বা বাক্স ব্যবহার করতেন, যা তার শরীরের সঙ্গে মানানসই করে বানানো হয়েছিল। সেই কাঠের বাক্সের ওপর ভর দিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় জিনিস আঁকড়ে ধরতেন বা নিজের কাজের পথ সুগম করতেন।

সমসাময়িক মানুষেরা প্রায়ই অবাক হতেন এই ভেবে যে, যার দৈহিক চলাচলের জন্য অন্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করার কথা, তিনি কীভাবে এত সুশৃঙ্খল এবং স্বাবলম্বী একটি সংসার পরিচালনা করছেন …

মূল প্রতিবেদন: Sarabangla

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

সম্পর্কিত খবর

এই সংবাদমাধ্যমের আরও খবর

সর্বশেষ

আলোচিত খবর