
ক্যানসার হাসপাতালের পাশে ‘রোগীনিবাস’: একটি সহজ কিন্তু জরুরি সমাধান
দেশের আটটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এসব হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিনিয়োগ। কিন্তু এই অবকাঠামো গড়ে ওঠার সময়ই সরকারের সামনে আরেকটি ছোট অথচ অত্যন্ত মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, প্রতিটি বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের পাশে দরিদ্র ও প্রান্তিক রোগী এবং তাঁদের সঙ্গে আসা স্বজনদের জন্য একটি স্বল্পমূল্যের ‘রোগী নিবাস’ গড়ে তোলা। এটি বিলাসিতা নয়- comprehensive cancer care- এর একটি মানবিক ও প্রয়োজনীয় অংশ।
যে দৃশ্য আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে : একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন সেই দৃশ্যগুলোর কথা, যা সংবাদমাধ্যমে বারবার আমাদের সামনে আসে। ঢাকার জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের সামনে খোলা আকাশের নিচে মাদুর বিছিয়ে রাত কাটাচ্ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। কেউ কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিয়ে দুর্বল শরীরে, বমিভাব ও ক্লান্তি নিয়ে শক্ত মাটিতে শুয়ে আছেন,পরদিন আবার চিকিৎসা নেওয়ার অপেক্ষায়। পাশে জেগে আছেন স্ত্রী, স্বামী কিংবা সন্তান। এটি শুধু একটি দিনের ছবি নয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের অসহায় দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ে। আহারে জীবন,সত্যিই, কী কঠিন বাস্তবতা! কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বাস্তবতা কি আমরা বদলাতে পারি না? একটি নিরাপদ আশ্রয় কি সত্যিই এত ব্যয়বহুল? এর জন্য জাঁকজমকপূর্ণ ভবন বা দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই।
দরকার মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ ও পরিচ্ছন্ন বিছানা, নারী-পুরুষের পৃথক থাকার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানি, স্বল্পমূল্যের খাবার বা যৌথ রান্নাঘর, রোগীর সঙ্গে আসা পরিচর্যাকারীর সীমিত থাকার সুযোগ, প্রাথমিক নার্সিং সহায়তা এবং জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা,এটুকু কি আমাদের সামর্থ্যের বাইরে? নাকি একই দৃশ্য বারবার দেখতে দেখতে তা আর আমাদের স্পর্শ করে না? ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই একজন মানুষের জন্য কি যথেষ্ট কঠিন নয়? এর সঙ্গে আশ্রয়ের জন্য আরেকটি লড়াই কেন যোগ হবে?
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗