
উৎসবের রং বদলেছে, বদলেছি কি আমরা ?
উৎস সবার, রাষ্ট্রও সবার । ছোটবেলায় উৎসব মানেই ছিল অন্য রকম এক আনন্দ । ঈদ আসবে কিংবা দুর্গাপূজা এই ভাবনাটুকুই যেন আমাদের দিনগুলোকে রঙিন করে তুলে। ক্যালেন্ডারের পাতায় উৎসবের তারিখ যতো এগিয়ে আসতো, মনের ভেতর আনন্দের ঢেউ ততো বাড়ে ।
নতুন জামা, বাড়িতে ভালো খাবারের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আগমন, পাড়াপড়শির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ সব মিলিয়ে উৎসব ছিল আমাদের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় । তখন উৎসবের আনন্দের জন্য খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হতো না, প্রয়োজন ছিল কেবল একটি নির্মল মন আর কাছের মানুষগুলোর সান্নিধ্য । ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা, পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের প্রস্তুতি সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের আবেগ । ঈদের দিন সকালে নামাজ শেষে পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কোলাকুলি, বড়দের সালাম করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াত এসবের মধ্যেই ঈদের প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পেতাম । কার বাড়িতে কী রান্না হয়েছে, কে নতুন জামা পরেছে, কে কোথায় বেড়াতে যাবে এসব ছিল আমাদের ছোট ছোট আলোচনার বিষয় ।
আবার দুর্গাপূজার সময় গ্রাম কিংবা শহরের পূজামণ্ডপগুলো যেন অন্য এক জগতে পরিণত হতো । প্রতিমা দর্শন, ঢাকের শব্দ, আলোকসজ্জা, মণ্ডপের সাজসজ্জা এবং মানুষের ভিড় সব মিলিয়ে চারপাশে সৃষ্টি হতো উৎসবের আবহ । মুসলমান পরিবারের সন্তান হয়েও পূজার আনন্দ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হতো না । বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে যাওয়া, পরিচিত হিন্দু পরিবারের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা উৎসবের আয়োজন দেখতে দেখতে সময় কাটানো এসব ছিল স্বাভাবিক সামাজিক জীবনের অংশ। আমাদের শৈশবের সমাজে ধর্মীয় পরিচয় ছিল, কিন্তু সেই পরিচয় সব সময় মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতো না । ঈদে হিন্দু প্রতিবেশীর শুভেচ্ছা কিংবা পূজায় মুসলমান বন্ধুর উপস্থিতি এসবের মধ্যে বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল সহজ সম্পর্ক, আন্তরিকতা ও একে অন্যের আনন্দকে নিজের আনন্দ বলে অনুভব করার ক্ষমতা ।
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗
