
বাবার মৃত্যুর পরও থামেনি স্বপ্ন: জিপিএ-৫ পেয়ে আইন পড়ার ইচ্ছে শোভার
সাকিব আল হাসান নাহিদ, মেলান্দহ: বাবার মৃত্যুর পর সংসারের চেনা ছন্দ বদলে গেলেও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস শোভা। জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের এই শিক্ষার্থী এখন আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্ট্রোক করে মারা যান শোভার বাবা কাঞ্চন আহমেদ। মেলান্দহ বাজারে তাঁর সুতা ও প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা ছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়া মা মরিয়ম আহমেদ সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি ছোট ব্যবসাটি নিজেই সামলাতে শুরু করেন। মেলান্দহ পৌরসভার কৃষি অফিসসংলগ্ন আদিপৈত এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে মায়ের সংগ্রাম ও নিজের নিয়মিত অধ্যবসায়কে সঙ্গী করেই এই সাফল্য অর্জন করেছেন শোভা। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে শোভা সবার বড়। ছোট ভাই সুয়াইব আহমেদ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট বোন অর্নিকা সাইয়ারার বয়স তিন বছর। এর আগে মেলান্দহ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৯৪ পেয়েছিলেন শোভা। অল্পের জন্য জিপিএ-৫ না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই এইচএসসিতে আরও ভালো করার সংকল্প নিয়েছিলেন তিনি।
শোভার সাফল্যে আনন্দিত মা মরিয়ম আহমেদ জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট দুই সন্তান ও ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে তিনি সবসময় নজর রেখেছেন। আজ মেয়ের এই ফলাফলে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং স্বামী বেঁচে থাকলে অনেক আনন্দিত হতেন বলে জানান তিনি। মেয়ের বড় হয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗
