১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩১ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিঢাকাজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামতসম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ

ভোরের পাখি ডাকার আগেই যাদের হাত ঘুরে আসে ১৭ কোটি মানুষের আহার!

সূত্র: Sarabangla / বাংলাদেশ

সংবাদ থেকে

পূবের আকাশে তখনো লালচে আভা ফুটেনি। কুয়াশা আর শিশিরে ভেজা মাটির পথ ধরে তরতর করে হেঁটে চলেছেন রহিমা বেগম। কাখে জলের কলসি, আর চোখে ঘুমভাঙা স্বপ্নের ঝিলিক। ঘরের ধান সেদ্ধ করা, উঠোনে চাল মেলানো, গোয়ালের গরু সামলানো থেকে শুরু করে হাঁটু পানিতে নেমে আমনের চারা রোপণ সূর্য ওঠার আগেই রহিমার দিনের অর্ধেক কাজ শেষ! এটি কেবল এক রহিমার গল্প নয়, বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মেহনতি গ্রামীণ নারীর প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র। প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর যখন ‘আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস’ আসে, তখন বিশ্বজুড়ে নানা রঙিন আয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের গ্রামের রহিমা, সালেহা কিংবা মালতিদের কাছে দিনটি আসে অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই নীরব কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে।

আমাদের সমাজের অনেকেই ভাবেন, কৃষিকাজ বুঝি কেবল পুরুষের একচ্ছত্র অধিপত্যের জায়গা। কিন্তু পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য! বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিবিএস) তথ্য ও বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, দেশের কৃষি খাতের প্রায় ৫৮ শতাংশ শ্রমের সাথে সরাসরি জড়িয়ে আছেন গ্রামীণ নারীরা। ভোর রাতে চুলা জ্বালানো থেকে শুরু করে বিকেলের সূর্য ডোবা পর্যন্ত তাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। বীজ সংরক্ষণ, চারা রোপণ, ধান মাড়াই, শাকসবজি চাষ কিংবা গবাদিপশু পালন কৃষি চক্রের প্রতিটি পরতেই চেপে আছে তাদের অদৃশ্য হাতের ছাপ। দেশের ১৭ কোটি মানুষের মুখের আন্ন সংস্থানে প্রতিদিন তারা যে ঘাম ঝরান, তার কোনো হিসাব হয়তো সরকারি খাতায় নেই, কিন্তু মেঠোপথের ধূলিকণা তার জীবন্ত সাক্ষী।

রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে পুরো দেশের খাদ্যের জোগান দিলেও কাজের যথাযথ স্বীকৃতি থেকে আজও বঞ্চিত বাংলার নারী কৃষকেরা। জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও দিনশেষে নারীরা পান না ‘কৃষক’ কার্ড কিংবা সরকারি কোনো সহজ কৃষিঋণ। দেশে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ জ্যামিতিক হারে বাড়লেও মাত্র ১৩ শতাংশের কাছাকাছি নারীর নিজস্ব জমির মালিকানা রয়েছে। এমনকি কৃষি মজুরির ক্ষেত্রেও রয়ে গেছে স্পষ্ট বৈষম্য; সমান সময় ও সমান পরিশ্রম দিয়েও পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পান তারা। সমাজ আজও তাদের দেখে ‘কৃষকের স্ত্রী’ বা ‘সহযোগী’ হিসেবে। অথচ এই নারীদের হাত থমকে গেলে সারা দেশের খাদ্যের শৃঙ্খল নিমেষেই ভেঙে পড়তে বাধ্য।

মূল প্রতিবেদন: Sarabangla

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

সম্পর্কিত খবর

এই সংবাদমাধ্যমের আরও খবর

সর্বশেষ

আলোচিত খবর