শামসুর রাহমানের ‘কালো মেয়ের জন্য পঙ্ক্তিমালা’

সংবাদ থেকে
শামসুর রাহমানের কবিতায় মানুষ প্রায়ই তার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সীমানা অতিক্রম করে একটি বৃহত্তর মানবিক অভিজ্ঞতার প্রতিনিধি হয়ে ওঠে। ‘কালো মেয়ের জন্য পঙ্ক্তিমালা’ সেই অর্থে তাঁর মানবতাবাদী কাব্যচেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
কবিতার শুরুতেই কবি পরিচয়ের প্রচলিত কাঠামোকে প্রশ্ন করেন: “আমার নামধাম তোমার জানার দরকার নেই, কালো মেয়ে।” নাম, বর্ণ, গোত্র, জাতিগত পরিচয় এখানে ক্রমে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। “আমি শাদা কি কালো, হলদে কি বাদামি, / সবুজ কি বেগুনি / তাতে কী এসে যায়?” এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে কবিতা প্রবেশ করে মানুষের এমন এক অঞ্চলে, যেখানে চামড়ার রং দিয়ে মানুষের মূল্য নির্ধারণের সমস্ত সামাজিক যুক্তি অস্বীকৃত হয়।
এই সূচনাটির শিল্পগুণ বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। কবি সরাসরি কোনো তত্ত্ব ঘোষণা করেননি; কথোপকথনের ভঙ্গিতে প্রশ্ন তুলেছেন। “ধ’রে নাও, আমার কোনো বর্ণ/ নেই, আমি গোত্রহীন।” পরিচয়হীনতার এই ঘোষণা আসলে পরিচয়ের বিলোপ নয়, বরং বৃহত্তর মানবপরিচয়ে প্রবেশ।
Read the complete and latest report on the publisher’s website.
View Original Article ↗