নবীগঞ্জের তারেক-কে হত্যার ঘটনায় আদালতে ঘাতকের স্বীকারোক্তি

সংবাদ থেকে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শখের আইফোনের প্রতি লোভ থেকে বন্ধুকে হত্যা করে সেই ফোন মাত্র ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন সায়েল মিয়া (২০)। পরে সেই টাকা দিয়ে কেনেন নতুন জামা ও একটি বাটনফোন। লাখাইয়ে নির্মাণাধীন ভবনে তারেক আহমেদ (২১) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সায়েল গতকাল বুধবার হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর দিবাগত রাতে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে তারেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে সায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত তারেক আহমেদ নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মহব্বত উল্লার ছেলে। অভিযুক্ত সায়েলও একই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা দুজনই নির্মাণশ্রমিক ছিলেন এবং লাখাইয়ের ফুলবাড়িয়া গ্রামে একই ভবনে কাজ করতেন ও রাতে থাকতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক সম্প্রতি একটি আইফোন-১১ কেনেন। ২২ অক্টোবর রাতে কাজ শেষে দুজন মুঠোফোনে গান ও সিনেমা দেখছিলেন। এ সময় তারেকের আইফোনটি নিজের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন সায়েল। পরে তাঁকে হত্যা করে ফোনটি নিয়ে যান। পরদিন হবিগঞ্জ শহরের এক ব্যক্তির কাছে ফোনটি ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি। এদিকে তারেক বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন সায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তারেক কুমিল্লায় কাজে গেছেন বলে জানান। এতে সন্দেহ তৈরি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে মঙ্গলবার বিকেলে সায়েলকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার তথ্য পাওয়ার পর তাঁর দেখানো স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তারেকের বাবা মহব্বত উল্লা বাদী হয়ে বুধবার লাখাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সায়েলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗


