৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামত ও সম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ

হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভায়-ডেপুটি স্পীকার ॥ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টির অবদানে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন মরহুম মতিন খান

সূত্র: Habiganj Express / বাংলাদেশ

সংবাদ থেকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, বলেন-বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ভূমি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে সাড়ে তিনশ’রও বেশি বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পত্তি কেনার অভিযোগ ছিল। আরো অনেকেই শত শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। আমাকে ভূমি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তখন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের বলেছিলাম ভূমি নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছেন। আমরা যারা মুসলমান রয়েছি, আমাদের প্রত্যেকেই মনে রাখতে হবে দিনশেষে আমরা সাড়ে ৩ হাত ভূমি ছাড়া কিছু পাবো না। তা মনে রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন-আইন শিক্ষার প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণে আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান একটি ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ডেপুটি স্পীকার আরো বলেন, মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খান ছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। হবিগঞ্জ ল কলেজ ভবিষ্যতেও সৎ, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডেপুটি স্পীকার বলেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি, কিন্তু ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জনগণ যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাঁদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ন্যায় বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায় বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ এমপি বলেন-আমরা যখনি অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খানের আইনি সহায়তা চেয়েছি তিনি আমাদের আইনি সহযোগিতা করেছেন। তার জীবনের ভালো কর্মকান্ডগুলো হবিগঞ্জবাসী আজীবন মনে রাখবেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন-অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খান গুনি মানুষ ছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমি হাইকোর্টে তার অনেক মামলা পরিচালনা করেছি এবং মামলাগুলোর কাজ করতে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। এমন গুনি মানুষ আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবে তার কর্মে। স্মরণসভায় অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ লক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ ব্যারিস্টার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাই, অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন, রায়ধর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবু সালেহ সাদী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন অ্যাডভোকেট রহমতে এ এলাহী। প্রধান অতিথিকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, কলেজের বিদুৎসাহি সদস্য মোহাম্মদ শাহীন। বিশেষ অতিথিদের ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রভাষক এ্যাডভোকেট তাহমিনা খান, প্রভাষক এ্যাডভোকেট নুরুল আমিন শোয়েব। অনুষ্ঠানে কলেজের প্রতিষ্ঠার মরহুমের জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জিপি অ্যাডভোকেট আ ফ ম খায়রুল ইসলাম খোকন ও অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক রাসেল। অনুষ্ঠানে ল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয় এবং অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

মূল প্রতিবেদন: Habiganj Express

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

সম্পর্কিত খবর

এই সংবাদমাধ্যমের আরও খবর

সর্বশেষ

আলোচিত খবর