সূর্যাস্ত না সূর্যোদয়! আমি কি কখনো আমাকে দেখেছি?

সংবাদ থেকে
অর্ধশতাব্দী পার করে এসেছি বহু আগেই! ষাটের দশকে দাঁড়িয়ে নিজের ফেলে আসা পথের পানে ফিরে তাকিয়ে বিকেলের রোদে দেখি একধরনের দীর্ঘ ছায়া! নিজেকে এই প্রথম আজ আমি দেখছি? এতগুলো বছর আমি সেই ছায়ার দিকে তাকিয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাসই ফেলেছি। শৈশব, কৈশোর, যৌবন আর মধ্যবয়সের বাঁকগুলো পেরিয়ে আসার পর আমার কেবলই মনে হতো, আমার জীবনের খাতাটা বোধহয় শুরু থেকেই ভুল কালিতে লেখা হয়েছিল। মনে হতো, স্রষ্টা আমার ললাটে সুখের কোনো রেখা টানেননি; আগাগোড়া যা লিখেছেন, তার সবটুকুই শোক, বঞ্চনা আর দীর্ঘশ্বাস।
কিন্তু মানুষের নিজের সম্পর্কে গড়া সবচেয়ে কঠিন ধারণাটিও কখনো কখনো একটিমাত্র প্রশ্নের ধাক্কায় নড়ে ওঠে। শেখ নাদিম, যাকে প্রায় চার দশক আগে মামার বিয়েতে ছোট্ট এক বালক হিসেবে বরযাত্রী হয়ে আসতে দেখেছিলাম। বয়সের ব্যবধান খুব বেশি না হলেও সে আমার সন্তানতুল্য, আমার স্বামীর একমাত্র ভাগ্নে! সময়ের কী আশ্চর্য বৃত্ত! চল্লিশ বছর আগের সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ পরিণত বয়সে এসে আমাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিল! কথা শুরু হয়েছিল আমার স্বামীর আকস্মিক অসুস্থতা নিয়ে, কিন্তু কথার স্রোত কখন যে আমার ভেতরের অর্গলবদ্ধ ঘরগুলোতে গিয়ে আঘাত করল, টেরই পাইনি।
অভ্যাসের বশেই বলছিলাম—আমার আর দাম কী, আমার কপালেই তো কিছু নেই, এই বয়সে তিনবেলা দুটো খাবার, কিছু ওষুধ আর মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই হলেই তো জীবন কেটে যায়। নাদিম আমার এই অভ্যস্ত হাহাকারকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। সে আমাকে এমন এক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাল, যা এতকাল আমার চোখের সামনে থেকেও আড়ালে পড়ে ছিল।
Read the complete and latest report on the publisher’s website.
View Original Article ↗