হবিগঞ্জে বিচার বিভাগীয় সম্মেলন মামলার জট নিরসনে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বারোপ

সংবাদ থেকে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জে বিচার বিভাগের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি হ্রাস এবং বিচারপ্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় হবিগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোহাঃ বজলুর রহমান। সম্মেলনে বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ৩-এর বিচারক, পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, সিনিয়র সিভিল জজ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এবং বিভিন্ন আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও সিভিল জজগণ। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক, পুলিশ সুপার, সিআইডি পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, গণপূর্ত বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক, আনসার ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার, জেলা কারাগারের জেল সুপার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বন বিভাগ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি.), ডেপুটি সরকারি কৌঁসুলি (ডি.পি.জি.পি.), পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি.), শিশু আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর, কোর্ট ইন্সপেক্টর এবং প্রবেশন অফিসারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে ছিল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পথে বিদ্যমান অন্তরায় ও উত্তরণের উপায়, আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা, তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রতা দূরীকরণ, সাীদের যথাসময়ে আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আসামিদের গ্রেপ্তার ও আদালতে উপস্থাপন, আদালত প্রাঙ্গণ এবং বিচারক ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, জেলখানার সংকট ও প্রতিকার, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আদালত প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা। বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনজীবী সমিতি ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ক্ষেত্রে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা, মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং আদালতের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
Read the complete and latest report on the publisher’s website.
View Original Article ↗