যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজ
সংবাদ থেকে
যশোর ব্যুরো ঃ যশোর শহরের গরীবশাহ সড়কে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার ২ নভেম্বর ভোর পৌনে ৫টার দিকে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটানো হয়। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। তারা হচ্ছে এ এস আই জাহিদুল ইসলাম ও নায়েক মুসা বিশ্বাস।
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখভাগে নির্মাত জুলাই স্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পুলিশ জানিয়েছে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন দুষ্কৃতকারী সেখানে পলিথিন ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্তম্ভটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও কালচে বর্ণ ধারণ করে। ঘটনার পরপরই অপরাধীরা প্যারিস রোড দিয়ে পালিয়ে যায়। স্মৃতিস্তম্ভটি অদূরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশাপাশি মাত্র ৫০ গজের মধ্যে পুলিশ বক্স থাকতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন জুলাই যোদ্ধারা।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিকা-ের ঘটনা শুনে জুলাই স্তম্ভে এসেছি। আসলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানটা কোনো নির্দিষ্ট একক দলের কৃতিত্ব না। এটা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসেরই একটা অংশ। আমাদের জাতীয় ইতিহাসেরই একটা অংশ। সেই ইতিহাসকে যারা মুছে ফেলতে চায়, ইতিহাসের স্মারকগুলোতে আগুন দিয়ে যারা মনে করে যে ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে, তারা আসলে ভুল করছে। কারণ পাকিস্তান আমলেও শহীদ মিনারে অসংখ্যবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ধ্বংস পারেনি তো। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান কতৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই ইতিহাসকে যারা মুছে ফেলতে চায়, তারাই ইতিহাসের গহ্বরে হারিয়ে যাবে।
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗

