
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন
একটি দেশ উন্নয়নের কোন স্থরে রয়েছে তার একটি নিয়ামক হলো মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর হার যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেক স্থর বিবেচনা করে তা নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রবৃদ্ধি মানে উন্নয়ন নয়। কোন দেশের অথনৈতিক অবস্থার গাণিতিক সূচক হিসাবে জিডিপির ধারণার প্রথম প্রস্তাব করেন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ সায়মন কুজনেট ১৯৩৭ সালে যেখানে তিনি দেখাতে চেষ্টা করেন জিডিপি কিভাবে একটি দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নতি ও অবনতি নির্দেশ করে। তার মতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিডিপি শুধু আর্থিক অবস্থার সূচক উন্নয়নে নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আইএমএফ বিশ্বব্যাংক একযোগে জিডিপিকে উন্নয়নের সূচক হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে পরবর্তীতে এটাকেই উন্নয়নের পরিমাপ বলে গ্রহণ করে নেয়। তবে অনেক গবেষকই উন্নয়ন পরিমাপের ভ্রান্ত ধারণার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন যার মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন মোজেস আব্রামোভিজ যিনি ১৯৫৯ সালেই এর সমালোচনা করছেন। আর ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক জোসেফ স্টিগলিতজ জিডিপিকে বাতিল করার আহ্বান জানান। তবে পঞ্চাশ দশকের ধ্রুপদি উন্নয়ন অর্থনীতিবিদরা বলেন টেকসই উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক বিকাশ শ্রমসাধ্য অথচ দেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং অর্থনীতিবিদ পেইকাং, রয় এফ হ্যারোড, ইভজি ডোমার ও রাবর্ট সলো দেখিয়েছেন দারিদ্র্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি কতটা জরুরী। তাদের বক্তব্য ছিল কৃষি কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা কৃষকও জানেন ভবিষ্যতে উন্নতির জন্য যা দিয়ে জমি, কৃষি উপকরণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় করা যায় যেখান থেকে বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে চীন দেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ শুরু করে যার ফলে সত্তর দশকের শেষ দিক থেকে চীনের জিডিপি কখনও বিশ শতাংশের নিচে নামেনি যা ২০০৮ সালে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে চলতি২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণের কারনে ২০২৩ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। টানা চার বছর দারিদ্র্য বেড়েছে: বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের দারিদ্র্যসীমায় দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। জাতীয় দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, দারিদ্র্যের হার টানা চতুর্থ বছরের মতো বেড়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোয় এই হার ৫৮ দশমিক ৯ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন ও আমানত সুরক্ষা আইন পশ করাকেইতিবাচক বলেছে বিশ্বব্যাংক। তবে দুর্বল ব্যাংককে বারবার ছাড় ও তারল্য সহায়তা দেওয়ায় প্রকৃত লোকসান শনাক্ত ও সমাধানের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।
মূল সংবাদ দেখুন ↗


