৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৭ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামত ও সম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ
একই ঘটনা

কোতোয়ালের প্রদীপ থেকে ইতিহাসের রক্তক্ষরণ— আমাদের হারানো পুলিশের উপাখ্যান

১টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত · এই তালিকায় ১টি প্রতিবেদন

প্রথম প্রতিবেদন: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৯ · সর্বশেষ প্রতিবেদন: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৯

প্রধান সংবাদ

Dainik Jahan বাংলা

কোতোয়ালের প্রদীপ থেকে ইতিহাসের রক্তক্ষরণ— আমাদের হারানো পুলিশের উপাখ্যান

· বাংলাদেশ

​ঝুম বৃষ্টির এক রাতে আপনার যুবতী মেয়েটি টিউশনি থেকে ফিরতে দেরি করছে। রাস্তার মোড়ে পুলিশের গাড়ি দেখে আপনার বুকটা আতঙ্ক ভয়ে হিম হয়ে গেল না; বরং আপনি দৌড়ে গিয়ে বললেন, ‘ভাই, আমার মেয়েটা এখনো ফেরেনি।’ আর সেই পুলিশ সদস্যটি নিজের ছোট বোনের মতো আপনার সন্তানকে নিরাপদে ঘরে পৌঁছে দিয়ে গেলেন! ভাবুন তো, একজন ধর্মভীরু রিকশাচালক বা অসহায় কৃষক কোনো তদবির বা ঘুষের ভয় ছাড়াই থানায় ঢুকে ওসির সামনে বসে নিজের কষ্টের কথা বলছেন, আর ওসি পরম মমতায় তাঁর চোখের জল মুছে দিচ্ছেন!

​ইতিহাসের ধূলিসধূসরিত পাতায় চোখ পাতলে আজও মেলে মধ্যযুগের সুবাহ বাংলার নিস্তব্ধ রাতের এক স্নিগ্ধ পদধ্বনি। তখন সম্রাট আকবরের শাসনকাল। আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে যে ‘কোতোয়াল’ বা নগররক্ষীর বিবরণ মেলে, তিনি কেবল রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী ছিলেন না; তিনি ছিলেন নগরবাসীর নিদ্রাহীন অভিভাবক, সমাজের হৃদস্পন্দন। কোন গৃহস্থের ঘরে সন্ধ্যায় চুলা জ্বলেনি, কোন ক্লান্ত মুসাফির পথ হারিয়ে গাছতলায় বসে আছে, কিংবা কার আঙিনায় অন্ধকারের পা পড়েছে—তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখা এবং প্রতিকার করাই ছিল কোতোয়ালের ইবাদততুল্য ধর্ম। কারও ঘরে চুরি হলে এবং সেই সম্পদ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে কোতোয়ালকে নিজের কোষাগার থেকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হতো। মানুষ তখন রক্ষীকে দেখে ভয়ে কুঁকড়ে যেত না; বরং গভীর রাতে কোতোয়ালের হাতে থাকা প্রদীপের আলো দেখে পরম নির্ভরতায় মা তার শিশুকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাতে যেতেন। শাসক ও শাসিতের মাঝখানে কোতোয়াল ছিলেন মমতার এক অবিচ্ছেদ্য সেতু।

​কিন্তু বাংলার সেই চিরায়ত, মাটির গন্ধমাখা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রথম বিষাক্ত ঘবসটি আসে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে। পলাশীর ট্রাজেডির পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবাধ লুণ্ঠনে বাংলায় নেমে আসে ধিয়াতরের মন্বন্তর। ক্ষুধার মানুষ ও বিখ্যাত পাইক-বরকন্দাজরা যখন ‘ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ’ গড়ে তুলে ইংরেজ কুঠির ভিত কাঁপিয়ে তুলল, তখন শক্তি লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে প্রবর্তন করলেন দুই মারনাস্ত্র—‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বা জমিদারি প্রথা এবং কুখ্যাত ‘কর্নওয়ালিস কোড’। একদিকে তৈরি হলো নিপীড়ক জমিদার শ্রেণি, অন্যদিকে প্রজাদের ঘাম ও রক্ত দিয়ে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে চিরতরে গলা টিপে হত্যা করা হলো আকবরী আমলের সেই জনবান্ধব কোতোয়ালি ব্যবস্থাকে। কোতোয়ালের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হলো সেবার প্রদীপ, আর নতুন সৃষ্টি হওয়া ‘দারোগার’ হাতে তুলে দেওয়া হলো প্রজা দমনের চাবুক।

মূল প্রতিবেদন: Dainik Jahan

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

একই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন একসঙ্গে দেখানো হয়েছে। AjkerNews এসব প্রতিবেদনের লেখক বা প্রকাশক নয়।

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ