
শৈশবের বন্ধু টেডি বিয়ারকে আলিঙ্গন করার দিন আজ
জীবনের দৌড়ঝাঁপ, ব্যস্ততা আর কংক্রিটের চারলোক ছেড়ে আমরা যখন একটু শান্তির খোঁজি, তখন মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সেই সোনাঝরা দিনগুলোর কথা। বালিশের পাশে বা মাথার ঠিক ওপরে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকা সেই নরম তুলতুলে পুতুলটি যাকে আমরা পরম যত্নে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়তাম। আজ সেই চিরচেনা ভালোবাসার বন্ধুটিকে বুকে জড়িয়ে ধরার দিন। ৭ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘টেডি বিয়ারকে আলিঙ্গন করার দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল হাগ আ বিয়ার ডে’। এটি কেবল একটি খেলনার প্রতি ভালোলাগার দিন নয়, বরং শৈশবের সুবাসমাখা স্মৃতি রোমন্থন এবং মানসিক প্রশান্তির এক দারুণ উপলক্ষ।
কেন এমন একটি অদ্ভুত অথচ মিষ্টি দিবস পালন করা হয়, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে ও স্মৃতির পাতায়। সারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর মানসিক ধকলের মাঝে একটা নরম তুলতুলে টেডি বিয়ারকে বুকে জড়িয়ে ধরলে শরীরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বলে, নরম বস্তু স্পর্শ করলে বা কাউকে বা কোনো কিছুকে জড়িয়ে ধরলে মস্তিষ্ক থেকে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের একাকিত্ব দূর করে, দুশ্চিন্তা কমায় এবং মনে সুখানুভূতি জাগায়। টেডি বিয়ার যেন আমাদের জীবনের সেই নিরব দর্শক, যে কোনো বিচার না করে আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট নিঃশব্দে গায়ে মেখে নেয়।
তবে এই টেডি বিয়ার নামকরণের ইতিহাসটিও কম রোমাঞ্চকর নয়। ১৯০২ সালের শেষের দিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্ট শিকারে গিয়ে একটি ভাল্লুক ছানাকে মারতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাটি নিয়ে সে সময় একটি রাজনৈতিক কার্টুন প্রকাশিত হলে তা মার্কিন জনমনে বেশ আলোড়ন তোলে। মঠ বা দোকানদার মরিস মিচম ও তার স্ত্রী সেই কার্টুন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কাপড়ের তৈরি ছোট একটি ভাল্লুকছানা বানান এবং প্রেসিডেন্টের নামানুসারে সেটির নাম দেন ‘টেডি বিয়ার’। খুব দ্রুতই সেটি শিশুদের খেলার সাথী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ভালোবাসার প্রতীক হয়ে ওঠে।
Read the complete and latest report on the publisher’s website.
View Original Article ↗