৫ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:৫০ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামত ও সম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ

নবীগঞ্জে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি আসামিরা

সূত্র: Habiganj Express / অপরাধ

সংবাদ থেকে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ পৌরসভার গয়াহরি এলাকায় ফুটবল খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বাদীর অভিযোগ, আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ােভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে। আহত যুবকের নাম সুপার্থ দাশ। তিনি গয়াহরি এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় দাশের পুত্র। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ হতে প্রায় ৬ মাস বিশ্রামে থাকতে হবে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে পৌরসভার গয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জখমী সুপার্থ দাশ ও আসামী সম্রাট দাশসহ কয়েকজন যুবক ফুটবল খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে পেনাল্টি শট নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে সুপার্থ দাশের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর আপ্যায়নের জন্য নির্ধারিত ১৫০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সম্রাট দাশের সঙ্গে সুপার্থ ও তাঁর সঙ্গী সজিব দাশের কথা-কাটাকাটি হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওই ঘটনার জেরে সম্রাট দাশ বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা সুজিত দাশ, ভাই সমির দাশ, সুজন দাশ ও সাগর দাশকে বিষয়টি জানান। এই ঘটনার জের ধরে ঐ দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গয়াহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় সুপার্থ দাশকে একা পেয়ে তাঁরা হামলা চালান। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সুজিত দাশের নির্দেশে সুজন দাশ ও সমির দাশ সুপার্থকে দুই হাত ধরে রাখেন। এ সময় সম্রাট দাশ ধারালো ছুরি দিয়ে সুপার্থের পেটের বাম পাশে সজোরে আঘাত করেন। সমির দাশও ছুরি দিয়ে তাঁর বাম হাতে আঘাত করেন। সুপার্থকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে সজিব দাশকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া সুপার্থকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সুপার্থকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন হয়। এজাহারে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকদের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুপার্থের বাবা সঞ্জয় দাশ গত ২২ সেপ্টেম্বর নবীগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আসামীরা হলেন সম্রাট দাশ (২০), সমির দাশ (২৯), সাগর দাশ (২৬), সুজন দাশ (২০) ও সুজিত দাশ (৬৫)। তাঁরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। মামলার দেড় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ােভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, গুরুতর আহত যুবক এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি, অথচ মামলার আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মূল প্রতিবেদন: Habiganj Express

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

সম্পর্কিত খবর

এই সংবাদমাধ্যমের আরও খবর

সর্বশেষ

আলোচিত খবর