২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৭ · ঢাকা স্বাধীন সংবাদ সংকলন
প্রধান মেনু
বাংলাদেশরাজনীতিজেলাঅপরাধআন্তর্জাতিকঅর্থনীতিব্যবসাশেয়ারবাজারখেলাবিনোদনপ্রযুক্তিবিজ্ঞানশিক্ষাস্বাস্থ্যজীবনযাপনপরিবেশকৃষিচাকরিধর্মভ্রমণমতামত ও সম্পাদকীয়তথ্য যাচাইসুখবরসাধারণ

সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন, সমাধান কোথায়?

সূত্র: Sarabangla / বাংলাদেশ

সংবাদ থেকে

বাংলাদেশে সড়ক অবরোধের ঘটনা নতুন নয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, শ্রমিকদের বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিবাদসহ নানা উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য আমাদের কাছে খুব পরিচিত। এসব আন্দোলনের পেছনে অনেক সময় বাস্তব সমস্যা, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিংবা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা কাজ করে। সেই দাবির যৌক্তিকতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু দাবি আদায়ের প্রধান পদ্ধতি হিসেবে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কতটা ন্যায়সংগত, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রতিবাদের অধিকার যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে প্রতিবাদ একসময় জনসমর্থন অর্জনের বদলে জনবিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিদ্যমান বিভিন্ন গবেষণা একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে তোলে। যান চলাচলের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত অসুবিধার গণ্ডিতে আটকে থাকে না, বরং তা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার সঙ্গে যখন নিয়মিত সড়ক অবরোধ যুক্ত হয়, তখন আগে থেকেই যানজটে বিপর্যস্ত নগরজীবনের চাপ আরও বহুগুণ বাড়ে। ২০২৪ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন পলিটিক্যাল সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি গবেষণায় আন্দোলনের সামাজিক প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। ২৬ জনের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ওই গুণগত গবেষণায় সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ার মারাত্মক উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এই একটি গবেষণা দিয়ে হয়তো সারা দেশের আন্দোলনের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এটি স্পষ্টভাবে দেখায়, আন্দোলনের প্রভাব বোঝার জন্য শুধু আন্দোলনকারীদের দাবি বা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া দেখলেই চলে না। যাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, তাঁদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হয়।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। দাবি আদায়ের জন্য জনজীবন অচল করে দেওয়ার এই প্রবণতা থেকে আমরা কেন বেরিয়ে আসতে পারছি না? ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অক্টোবরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনা একই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকার উত্তরা ও সায়েন্স ল্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই বছরের ৯ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। পুলিশ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর দুপুর ৩টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে অবরোধ উঠে যাওয়ার পরও যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

মূল প্রতিবেদন: Sarabangla

সম্পূর্ণ সংবাদ ও সর্বশেষ তথ্যের জন্য মূল প্রকাশনায় দেখুন।

মূল সংবাদ দেখুন ↗

সম্পর্কিত খবর

এই সংবাদমাধ্যমের আরও খবর

সর্বশেষ

আলোচিত খবর